দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কেউ হয়তো জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থেকেছেন। কেউ শুনেছেন না বলা কথাগুলো। আবার কেউ হয়তো নিঃশব্দে হয়ে উঠেছেন পথচলার সঙ্গী। জীবনে এমন একজন মানুষকে পাশে পাওয়া নিঃসন্দেহে সৌভাগ্যের। কারণ সম্পর্ক শুধু ভালো লাগার গল্প নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে দায়িত্ব, যত্ন আর একে অপরের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি।
প্রিয় সেই মানুষটির প্রতি একটু বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা কিংবা ভালোবাসা প্রকাশের উপলক্ষ হিসেবে আজ ৩ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস। দিনটি ঘিরে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে চলছে নানা আয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম খুললেই চোখে পড়ছে প্রিয় মানুষের সঙ্গে কাটানো মুহূর্তের ছবি, আবেগঘন লেখা আর ভালোবাসার নানা প্রকাশ।
তবে বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসের পেছনে নেই কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ধারণা করা হয় ২০১৪ সালের দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দিবসটির সূচনা। এরপর ২০১৬ সালের দিকে এটি বিশ্বজুড়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে। ১ আগস্টের গার্লফ্রেন্ড দিবসের আদলেই ছেলেদের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মান প্রকাশের জন্য এই দিনটি উদযাপনের প্রচলন শুরু হয় বলে ধারণা করা হয়।
বর্তমান সময়ে কোনো বিশেষ দিবসের উদযাপন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ছাড়া যেন অসম্পূর্ণ। বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবসও তার ব্যতিক্রম নয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও টিকটকে দিনটি ঘিরে চলছে নানা আয়োজন। অনেকেই প্রিয় মানুষের ছবি প্রকাশ করছেন হ্যাশট্যাগের সঙ্গে।
কেউ ফিরছেন পুরোনো স্মৃতিতে। সম্পর্কের শুরুর দিকের ছবি আর বর্তমানের ছবি পাশাপাশি রেখে তৈরি করছেন ভিডিও। এর সঙ্গে যোগ হচ্ছে আবেগঘন পটভূমির সংগীত। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ছে টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে।
আবার সম্পর্কের বিষয়টি প্রকাশ্যে আনতে চান না অনেকে। তারাও নিজেদের মতো করে অংশ নিচ্ছেন এই আয়োজনে। কারও ছবিতে দেখা যাচ্ছে শুধু হাত ধরা, কারও হাতে থাকা কফির কাপের পাশে প্রিয় মানুষের আবছা অবয়ব, আবার কেউ প্রকাশ করছেন শুধু পেছন দিকের ছবি।
তবে এই আয়োজন শুধু যুগলদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দিবসটি ঘিরে একা থাকা মানুষদের মজার মিম ও ঠাট্টার পোস্টও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ফলে ভালোবাসার এই দিনটিকে ঘিরে সেখানে তৈরি হয়েছে আনন্দ ও রসিকতার আলাদা আবহ।
ব্যস্ত জীবনে একে অপরকে সময় দেওয়াই যখন অনেকের কাছে সবচেয়ে বড় উপহার, তখন দিবসটি ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বাইরেও চলছে নানা আয়োজন। কেউ প্রিয় মানুষের পছন্দের কোনো উপহার দিচ্ছেন। কেউ বেছে নিচ্ছেন বই, সুগন্ধি কিংবা হাতে লেখা চিঠি। আবার কেউ প্রিয় কোনো রেস্তোরাঁয় সময় কাটানো, দীর্ঘ ভ্রমণ কিংবা ঘরে বসে পছন্দের সিনেমা দেখার পরিকল্পনা করছেন।
আসলে আয়োজন যত বড়ই হোক, সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্ব পায় যত্ন আর আন্তরিকতা। ব্যস্ততার ভিড়ে একে অপরের জন্য কিছুটা সময় বের করে নেওয়াটাই হয়ে উঠতে পারে দিনের সবচেয়ে অর্থবহ আয়োজন।
সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, পুরুষরা অনেক সময় নিজেদের অনুভূতি কিংবা কষ্ট সহজে প্রকাশ করতে পারেন না। সম্পর্কে তারা কতটা যত্নশীল, সেটিও অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়। তাই এ ধরনের একটি দিন তাদের জন্য মানসিক তৃপ্তির উপলক্ষ হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে উপহারের দাম বড় বিষয় নয়। বরং প্রিয় মানুষটির প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করাটাই গুরুত্বপূর্ণ। ‘তুমি আমার জীবনে আছ, এ জন্য আমি কৃতজ্ঞ’ এমন একটি ছোট বাক্যও কারও পুরো দিনটিকে সুন্দর করে দিতে পারে।
তাই বিশ্ব বয়ফ্রেন্ড দিবস হয়তো শুধু একটি বিশেষ দিন উদযাপনের উপলক্ষ নয়। বরং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ মানুষটির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের একটি সুযোগ। ভালোবাসা প্রকাশের জন্য সব সময় বড় আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কখনো কখনো আন্তরিক কয়েকটি কথাই যথেষ্ট, যা মনে করিয়ে দেয়, একজন মানুষ আরেকজনের জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
/অ